পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্রের সপ্তম অধ্যায় — ভৌত আলোকবিজ্ঞান। সাবানের বুদবুদে রঙের খেলা কেন, দুটি আলাদা বাল্ব দিয়ে ব্যতিচার হয় না কেন, উড়ন্ত উড়োজাহাজের ছায়া মাটিতে পড়ে না কেন — এই অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্নগুলো আলোর তরঙ্গ স্বভাব, ব্যতিচার ও অপবর্তন থেকে আসে। এই পোস্টে অধ্যায়ের সব গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর একসাথে সাজানো হয়েছে — বোর্ড পরীক্ষা ও কলেজ টেস্ট পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে। প্রতিটি উত্তর ২ নম্বরের উপযোগী করে সংক্ষিপ্ত ও ধারণা-নির্ভর করে লেখা।
অনুধাবনমূলক প্রশ্নের তালিকা
- প্রশ্ন 01: হাইগেনসের নীতি বলতে কী বোঝ? এটি দিয়ে প্রতিসরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
- প্রশ্ন 02: সুসংগত উৎস বলতে কী বোঝ? দুটি পৃথক বাল্ব দিয়ে ব্যতিচার পটি পাওয়া যায় না কেন?
- প্রশ্ন 03: দশা পার্থক্য ও পথ পার্থক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন কর।
- প্রশ্ন 04: সু-সংগত উৎসের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 05: তরঙ্গের ব্যতিচার কেবলমাত্র তরঙ্গধর্ম নির্ধারণ করতে পারে; তরঙ্গের প্রকৃতি নির্ণয় করতে পারে না কেন?
- প্রশ্ন 06: একটি চিড়ের সামনে পাতলা কাচের পাত রাখলে ব্যতিচার পটি সরে যায় কেন?
- প্রশ্ন 07: অপবর্তন সৃষ্টি হয় কেন?
- প্রশ্ন 08: ফ্রনহফার শ্রেণি অপবর্তনে উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 09: সূর্যের আলোয় আলোকিত সাবানের ফেনায় গঠিত বর্ণ ও প্রিজমে গঠিত বর্ণের মধ্যে পার্থক্য আছে কি?
- প্রশ্ন 10: উড্ডয়মান উড়োজাহাজের ছায়া মাটিতে পড়ে না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 11: অপবর্তন ঝালরে উজ্জ্বল পট্টিগুলোর প্রত্যেকটিতে আলোক তীব্রতা একই থাকে না — ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 12: ছিদ্র হতে পর্দা অতি নিকটে থাকলে অপবর্তন অবলোকন করা যায় না কেন?
- প্রশ্ন 13: ব্যতিচার ও অপবর্তন আলোক ঘটনা দুটির মাঝে মৌলিক পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 14: তরঙ্গের উপরিপাতন ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 15: আলো তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ — ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 16: ফ্রেনেল শ্রেণীর অপবর্তন বলতে কী বুঝায়?
- প্রশ্ন 17: তরঙ্গ মুখের প্রকৃতি উৎস হতে দূরত্ব নির্ভর — ব্যাখ্যা কর।
- প্রশ্ন 18: সূর্যের আলোর তরঙ্গমুখ সমতল হয় কেন?
- প্রশ্ন 19: লেজার আলো সাধারণ আলোর চেয়ে বেশি সুসংগত কেন?
- প্রশ্ন 20: তরঙ্গমুখ বলতে কী বোঝ? দূরের নক্ষত্রের আলোর তরঙ্গমুখ সমতল ধরা হয় কেন?
- প্রশ্ন 21: হলোগ্রাফি বলতে কী বোঝ? সাধারণ ছবির সঙ্গে এর পার্থক্য কী?
- প্রশ্ন 22: দ্বি-চিড় পরীক্ষার একটি চিড় ঢেকে দিলে ব্যতিচার পটি হারিয়ে যায় কেন?
প্রশ্ন 01: হাইগেনসের নীতি বলতে কী বোঝ? এটি দিয়ে প্রতিসরণ কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
উত্তর: হাইগেনসের নীতি বলে: তরঙ্গমুখের প্রতিটি বিন্দুকে নতুন গৌণ তরঙ্গিকার (wavelet) উৎস ধরা যায়, যেগুলো তরঙ্গের বেগে সামনের দিকে ছড়ায়; যেকোনো পরবর্তী মুহূর্তের নতুন তরঙ্গমুখ হলো সব গৌণ তরঙ্গিকার সাধারণ স্পর্শক তল। প্রতিসরণের ব্যাখ্যা: তরঙ্গমুখ ঘন মাধ্যমে ঢুকলে বেগ কমে যায় — তরঙ্গমুখের যে প্রান্ত আগে সীমানায় পৌঁছায় সে ধীর গতিতে এগোয়, অপর প্রান্ত দ্রুত গতিতে সীমানা পর্যন্ত চলে আসে; ফলে তরঙ্গমুখটি ঘুরে যায় এবং তরঙ্গ অভিলম্বের দিকে বেঁকে এগোয়। এই জ্যামিতি থেকেই স্নেলের সূত্র (sin i/sin r = v₁/v₂ = ধ্রুবক) সরাসরি বেরিয়ে আসে — প্রতিসরণের সূত্রকে তরঙ্গচিত্রে প্রতিষ্ঠা দেওয়াই হাইগেনসের কীর্তি। ফ্রেনেল পরবর্তীতে এই নীতিতে ব্যতিচার যোগ করে তা সম্পূর্ণ করেন।
প্রশ্ন 02: সুসংগত উৎস বলতে কী বোঝ? দুটি পৃথক বাল্ব দিয়ে ব্যতিচার পটি পাওয়া যায় না কেন?
উত্তর: দুটি উৎস সুসংগত হয় যদি তাদের কম্পাঙ্ক সমান হয় এবং তাদের দশা পার্থক্য সবসময় ধ্রুব থাকে। স্থায়ী ব্যতিচার পটি পেতে হলে পর্দার প্রতিটি বিন্দুতে দশা পার্থক্য সময়ে ধ্রুব থাকতে হবে — নইলে উজ্জ্বল-অন্ধকার অবস্থান প্রতিক্ষণ বদলাতে থাকবে। দুটি পৃথক বাল্বের পরমাণুগুলো স্বতন্ত্রভাবে, এলোমেলো দশায় আলো ছাড়ে — প্রতি প্রায় 10⁻⁸ সেকেন্ডে দশা সম্পর্ক পুরোপুরি বদলে যায়, ফলে পটি-বিন্যাস চোখের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্রুত বদলায় এবং আমরা দেখি সুষম আলো। এ কারণেই ইয়ং একই উৎসকে দুটি চিড় দিয়ে ভাগ করে সুসংগত জোড় তৈরি করেন — দুটি চিড় একই তরঙ্গমুখ থেকে আসায় দশা পার্থক্য সবসময় ধ্রুব থাকে। লেজার ব্যতিক্রমীভাবে দুটি আলাদা উৎসকেও সুসংগতের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন 03: দশা পার্থক্য ও পথ পার্থক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন কর।
উত্তর: দুটি তরঙ্গের পথ পার্থক্য Δx ও দশা পার্থক্য δ-এর মধ্যে সম্পর্ক হলো δ = (2π/λ) × Δx, যেখানে λ তরঙ্গদৈর্ঘ্য। ভিত্তি সহজ: এক পূর্ণ তরঙ্গদৈর্ঘ্য পথ বেশি চলা মানে তরঙ্গটি ঠিক এক পূর্ণ চক্র পিছিয়ে পড়ে, অর্থাৎ দশা পার্থক্য 2π (এক পূর্ণ দশা চক্র)। পথ পার্থক্য এর ভগ্নাংশ হলে দশা পার্থক্যও একই অনুপাতে ভগ্নাংশ হয় — যেমন পথ পার্থক্য λ/2 হলে δ = π, λ/4 হলে δ = π/2। এই সম্পর্ক দিয়েই ব্যতিচারের শর্ত লেখা হয়: Δx = nλ হলে δ = 2nπ (সমদশা, গঠনমূলক ব্যতিচার), আর Δx = (2n+1)λ/2 হলে δ = (2n+1)π (বিপরীত দশা, ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার)। সুতরাং পথ পার্থক্য জানলেই দশা পার্থক্য, আর দশা পার্থক্য জানলেই পর্দায় কোন বিন্দু উজ্জ্বল না অন্ধকার হবে তা সরাসরি বের করা যায়।
প্রশ্ন 04: সু-সংগত উৎসের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সুসংগত উৎসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো — (১) উৎসদ্বয় একই কম্পাঙ্কের (অর্থাৎ একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের) আলো নিঃসরণ করে; (২) তাদের মধ্যকার দশা পার্থক্য সবসময় ধ্রুবক থাকে, কখনোই এলোমেলোভাবে বদলায় না; (৩) তরঙ্গগুলো একই দিকে সঞ্চালিত হয়; (৪) স্পষ্ট পটি পেতে হলে উৎসদ্বয়ের বিস্তার প্রায় সমান হওয়া ভালো — তবেই অন্ধকার পটি প্রায় পূর্ণ অন্ধকার হয়। ধ্রুব দশা পার্থক্যই মূল কথা: এর জন্যই পর্দার প্রতিটি বিন্দুতে গঠনমূলক বা ধ্বংসাত্মক অবস্থা স্থায়ী থাকে এবং স্থির ব্যতিচার পটি দেখা যায়। বাস্তবে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা উৎস এমন হতে পারে না, তাই একটি মূল উৎসকেই দুই ভাগে ভাগ করে (তরঙ্গমুখ বিভাজন — ইয়ং-এর দ্বি-চিড়; অথবা বিস্তার বিভাজন — লয়েডের আয়না, ফ্রেনেল বাইপ্রিজম) সুসংগত জোড় তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন 05: তরঙ্গের ব্যতিচার কেবলমাত্র তরঙ্গধর্ম নির্ধারণ করতে পারে; তরঙ্গের প্রকৃতি নির্ণয় করতে পারে না কেন?
উত্তর: ব্যতিচার সব ধরনের তরঙ্গেরই সাধারণ ধর্ম — পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ সবই ব্যতিচার দেখায়। ইয়ং-এর দ্বি-চিড় পরীক্ষায় পটি দেখা গেলে তা প্রমাণ করে আলো তরঙ্গ আকারে চলে (কণাধারায় চললে দুটি চিড়ের পেছনে দুটি উজ্জ্বল দাগ ছাড়া পটি বিন্যাস মিলত না)। কিন্তু ব্যতিচার ঘটে তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য হলেও, অনুপ্রস্থ হলেও — দুই ক্ষেত্রেই উপরিপাতনের নিয়ম একই। শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ হয়েও ব্যতিচার করে, তাই শুধু ব্যতিচার দেখে আলোক তরঙ্গের কম্পন সঞ্চালনের দিকে না লম্বদিকে — অর্থাৎ তরঙ্গটি অনুদৈর্ঘ্য না অনুপ্রস্থ — তা বলা যায় না। তরঙ্গের প্রকৃতি (অনুপ্রস্থতা) নির্ণয়ের জন্য দরকার সমবর্তনের প্রমাণ: কেবল অনুপ্রস্থ তরঙ্গকেই সমবর্তিত করা যায়। তাই বলা হয়, ব্যতিচার তরঙ্গধর্মের প্রমাণ, কিন্তু প্রকৃতি নির্ণয়ের প্রমাণ নয়।
প্রশ্ন 06: একটি চিড়ের সামনে পাতলা কাচের পাত রাখলে ব্যতিচার পটি সরে যায় কেন?
উত্তর: কাচের পাত (বেধ t, প্রতিসরণাঙ্ক μ) এক চিড়ের পথে রাখলে ওই পথের আলোকীয় দৈর্ঘ্য বেড়ে যায় (μ − 1)t পরিমাণ — অর্থাৎ ওই চিড়ের তরঙ্গ অতিরিক্ত পথ পার্থক্য নিয়ে আসে। কেন্দ্রীয় উজ্জ্বল পটির শর্ত “পথ পার্থক্য = 0” তখন আর আগের কেন্দ্রে থাকে না; পুরো পটি-বিন্যাসটি কাচ রাখা চিড়ের দিকে Δx = (D/d)(μ − 1)t পরিমাণ সরে যায় যাতে জ্যামিতিক পথ পার্থক্য অপটিক্যাল বাড়তিটাকে পুষিয়ে দেয়। পটির আকার বা প্রস্থ বদলায় না, শুধু পুরো বিন্যাসের স্থানান্তর হয়। এই পটি-সরণ মেপেই পাতলা পাতের বেধ বা প্রতিসরণাঙ্ক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নির্ণয় করা যায় — মাইকেলসন ইন্টারফেরোমিটারের কার্যপদ্ধতির ভিত্তিও এটাই।
প্রশ্ন 07: অপবর্তন সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর: অপবর্তনের মূল কারণ তরঙ্গের হাইগেনস নীতি। তরঙ্গমুখের প্রতিটি বিন্দু গৌণ তরঙ্গিকার উৎস; কোনো তরঙ্গ যখন কোনো বাধা বা ছিদ্রের প্রান্তের কাছ দিয়ে যায়, তখন প্রান্তের কাছাকাছি গৌণ তরঙ্গিকাগুলো একপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয় না — সেগুলো জ্যামিতিক ছায়া অঞ্চলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তরঙ্গের সম্মুখভাগ প্রান্তে বেঁকে যায় এবং আলো ছায়া অঞ্চলে প্রবেশ করে — এটাই অপবর্তন। বাঁকের মাত্রা নির্ভর করে বাধা বা ছিদ্রের আকার a ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য λ-এর অনুপাতের ওপর: a যত λ-এর কাছাকাছি, বাঁক তত প্রকট। এছাড়া ছায়া অঞ্চলে ঢুকে পড়া তরঙ্গিকাগুলো পরস্পরের সঙ্গে ব্যতিচার করে অপবর্তন পটি গঠন করে। অর্থাৎ অপবর্তন আসলে একই তরঙ্গমুখের বিভিন্ন অংশের গৌণ তরঙ্গের ব্যতিচারেরই ফল — বাধা যত বড় (λ-এর তুলনায়), এই ফল তত অনুপস্থিতপ্রায় হয়।
প্রশ্ন 08: ফ্রনহফার শ্রেণি অপবর্তনে উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ফ্রনহফার অপবর্তনের শর্ত হলো উৎস ও পর্দা উভয়ই ছিদ্র বা চিড় থেকে কার্যত অসীম দূরত্বে থাকবে — যাতে আপতিত তরঙ্গমুখ সমতল হয় এবং অপবর্তিত রশ্মিগুচ্ছ সমান্তরাল থাকে। অসীম দূরত্বে পর্দা রাখা বাস্তবে অসম্ভব, তাই উত্তল লেন্স দিয়ে সেই শর্ত কৃত্রিমভাবে পূরণ করা হয়। একটি উত্তল লেন্স চিড়ের ঠিক পেছনে রাখলে সমান্তরাল অপবর্তিত রশ্মিগুচ্ছ লেন্সের ফোকাস তলে মিলিত হয় — অর্থাৎ অসীম দূরের বিন্যাসটি ফোকাস দূরত্বেই নেমে আসে। আবার উৎসের সামনে আরেকটি উত্তল লেন্স রাখলে বিন্দু উৎসের গোলীয় তরঙ্গমুখ সমতল হয়ে চিড়ে আপতিত হয়। এভাবে লেন্সের সাহায্যে কমপ্যাক্ট পরীক্ষা-ব্যবস্থাতেই ফ্রনহফার বিন্যাস পরিমাপ করা যায় — প্রতিটি অপবর্তন কোণ θ ফোকাস তলে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান নির্দেশ করে, যা থেকে গ্রেটিং বা চিড়ের সূত্র যাচাই করা হয়।
প্রশ্ন 09: সূর্যের আলোয় আলোকিত সাবানের ফেনায় গঠিত বর্ণ ও প্রিজমে গঠিত বর্ণের মধ্যে পার্থক্য আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, পার্থক্য আছে — কারণ দুই ক্ষেত্রে বর্ণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াই আলাদা। সাবানের ফেনার বর্ণ আসে পাতলা স্তরের ব্যতিচার থেকে: ফেনার দুই পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত আলোর পথ পার্থক্য (প্রায় 2μt) কোনো বর্ণের জন্য গঠনমূলক হলে সেই বর্ণ উজ্জ্বল হয়, অন্য বর্ণ ধ্বংসাত্মক হয়ে মুছে যায়। স্তরের বেধ জায়গায় জায়গায় বদলায় বলে রঙও জায়গা অনুযায়ী বদলায় এবং সময়ে ফেনা পাতলা হতে থাকলে রঙের বিন্যাস নড়তে থাকে। অপরদিকে প্রিজমের বর্ণ আসে বিচ্ছুরণ (প্রতিসরণ) থেকে — কাচের প্রতিসরণাঙ্ক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে বলে প্রতিটি বর্ণ ভিন্ন কোণে বেঁকে সাজানো বর্ণালি তৈরি হয়; এই ক্রম (লাল সবচেয়ে কম বাঁকে, বেগুনি সবচেয়ে বেশি) সবসময় একই থাকে। সারকথা: ফেনার রঙ ব্যতিচারের, প্রিজমের রঙ বিচ্ছুরণের — একই সাদা আলো থেকে এলেও ঘটনা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভৌত প্রক্রিয়া।
প্রশ্ন 10: উড্ডয়মান উড়োজাহাজের ছায়া মাটিতে পড়ে না কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ছায়া দুই ভাগে ভাগ থাকে — মাঝখানে পূর্ণ অন্ধকার প্রচ্ছায়া (umbra) ও চারদিকে আংশিক আলোকিত উপচ্ছায়া (penumbra)। সূর্য একটি বিস্তৃত উৎস বলে উড়োজাহাজের পেছনে প্রচ্ছায়া অংশটি শঙ্কুর মতো ক্রমশ সরু হতে থাকে এবং বিমানের উচ্চতা (প্রায় ১০ কিমি) পর্যন্ত পৌঁছানোর অনেক আগেই শেষ হয়ে যায় — মাটি পর্যন্ত টিকে থাকে শুধু উপচ্ছায়া। আবার তত দূর যেতে যেতে উপচ্ছায়া এত ছড়িয়ে ও ম্লান হয়ে পড়ে যে তা চোখে ধরা পড়ে না। এর ওপর উড়োজাহাজের প্রান্ত ঘেঁষে আসা আলো অপবর্তনের ফলে ছায়া অঞ্চলে কিছুটা ঢুকে পড়ে এবং বায়ুমণ্ডলের বিক্ষিপ্ত আলোও ছায়াকে আরও ম্লান করে দেয়। ফলে মাটিতে উড়োজাহাজের কোনো স্পষ্ট ছায়া দেখা যায় না — বিমান খুব নিচু দিয়ে উড়লে (ওঠানামার সময়) তখনই ছায়া দেখা যায়।
প্রশ্ন 11: অপবর্তন ঝালরে উজ্জ্বল পট্টিগুলোর প্রত্যেকটিতে আলোক তীব্রতা একই থাকে না — ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: একক চিড়ের অপবর্তনে চিড়টিকে অসংখ্য গৌণ উৎসের সারি ধরা যায়। কেন্দ্রীয় দিকে (θ = 0) সব গৌণ তরঙ্গ সমদশায় মিলিত হয় — কোনো অংশই কাটাকাটি করে না, তাই কেন্দ্রীয় উজ্জ্বল পটি সর্বোচ্চ তীব্রতার হয়। পার্শ্বীয় পটিগুলোতে চিত্র বদলে যায়: সেখানে চিড়ের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা তরঙ্গের মধ্যে এমন পথ পার্থক্য তৈরি হয় যে চিড়ের বড় একটি অংশের তরঙ্গ জোড়ায় জোড়ায় পরস্পরকে ধ্বংস করে, টিকে থাকে মাত্র একটি ছোট ভগ্নাংশের অবদান। ক্রম যত বাড়ে, অবদানকারী ভগ্নাংশ তত ছোট হয় — প্রথম পার্শ্বীয় পটির তীব্রতা কেন্দ্রীয়টির মাত্র প্রায় 4.5%, দ্বিতীয়টির আরও কম (প্রায় 1.6%)। ফলে অপবর্তন বিন্যাসে পটিগুলোর তীব্রতা কেন্দ্র থেকে দূরে দ্রুত কমতে থাকে — ব্যতিচারের মতো সব পটি সমান উজ্জ্বল হয় না। এই অসম তীব্রতা-বণ্টনই অপবর্তনকে ব্যতিচার থেকে আলাদা করে চেনার একটি প্রধান লক্ষণ।
প্রশ্ন 12: ছিদ্র হতে পর্দা অতি নিকটে থাকলে অপবর্তন অবলোকন করা যায় না কেন?
উত্তর: অপবর্তন পটি গঠিত হতে হলে ছিদ্রের বিভিন্ন বিন্দু থেকে আসা গৌণ তরঙ্গগুলোকে পর্দা পর্যন্ত যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত পথ পার্থক্য জমাতে হয় — তবেই কোনো জায়গায় গঠনমূলক, কোথাও ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার হয়ে উজ্জ্বল-অন্ধকার পটির বিন্যাস দাঁড়ায়। পর্দা ছিদ্রের অতি কাছে থাকলে তরঙ্গগুলো পর্দায় পৌঁছানোর আগেই তাদের মধ্যকার পথ পার্থক্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় নগণ্য থাকে; তারা প্রায় মূল দশা সম্পর্ক নিয়েই পর্দায় পড়ে, ফলে পর্দায় ছিদ্রের প্রায় জ্যামিতিক প্রতিবিম্বই দেখা যায় — শুধু প্রান্তে সামান্য ঝাপসা ভাব। পর্দা দূরে সরালে (বা লেন্স দিয়ে অপবর্তিত রশ্মিগুলোকে ফোকাস তলে মিলিয়ে দিলে) পথ পার্থক্য পূর্ণতা পায় এবং স্বতন্ত্র অপবর্তন পটি স্পষ্টভাবে অবলোকন করা যায়। এ কারণেই অপবর্তন পরীক্ষায় পর্দার দূরত্ব বা লেন্সের ফোকাস ব্যবস্থা অপরিহার্য।
প্রশ্ন 13: ব্যতিচার ও অপবর্তন আলোক ঘটনা দুটির মাঝে মৌলিক পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মৌলিক পার্থক্যটি উপরিপাতনে অংশ নেওয়া তরঙ্গের উৎসে। ব্যতিচার ঘটে দুটি পৃথক তরঙ্গমুখ বা দুটি পৃথক সুসংগত উৎস থেকে আসা তরঙ্গের উপরিপাতনে — যেমন ইয়ং-এর পরীক্ষায় দুটি আলাদা চিড়ের তরঙ্গ। অপবর্তন ঘটে একই তরঙ্গমুখের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা গৌণ তরঙ্গিকাগুলোর উপরিপাতনে — তরঙ্গ কোনো বাধা বা ছিদ্রের প্রান্তে বেঁকে গেলে এই বিন্যাস তৈরি হয়; অপবর্তনকে তাই অসংখ্য গৌণ উৎসের ব্যতিচারও বলা যায়। ফলের দিক থেকেও পার্থক্য স্পষ্ট: ব্যতিচারে সব উজ্জ্বল পটির প্রস্থ সমান এবং তীব্রতা প্রায় সমান, অন্ধকার পটি সম্পূর্ণ অন্ধকার হতে পারে। অপবর্তনে কেন্দ্রীয় পটি দ্বিগুণ প্রশস্ত এবং পার্শ্বীয় পটির তীব্রতা দ্রুত কমতে থাকে। সহজ ভাষায় — দুটি তরঙ্গের মিলন ব্যতিচার, একটি তরঙ্গের নিজের অংশগুলোর মিলন অপবর্তন।
প্রশ্ন 14: তরঙ্গের উপরিপাতন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উপরিপাতন নীতি বলে — কোনো মাধ্যমে একই সময়ে দুই বা ততোধিক তরঙ্গ কোনো বিন্দুতে মিলিত হলে ওই বিন্দুতে মাধ্যমের কণার লব্ধি সরণ প্রতিটি তরঙ্গের দরকারি আলাদা সরণের ভেক্টর (বা বীজগাণিতিক) যোগফলের সমান হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মিলিত হওয়ার পর তরঙ্গগুলো একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয় না — প্রত্যেকে নিজের আকৃতি, বেগ ও দিক বজায় রেখে আলাদা হয়ে সামনে এগিয়ে যায়, যেন অন্য তরঙ্গটি ছিলই না। এই নীতিই ব্যতিচার ও অপবর্তনের ভিত্তি: দুটি সুসংগত তরঙ্গ একই দশায় মিললে সরণ দ্বিগুণ হয়ে গঠনমূলক ব্যতিচার, বিপরীত দশায় মিললে সরণ কেটে গিয়ে ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার হয়। দড়িতে দুটি স্পন্দন পরস্পরকে অতিক্রম করার পরও অপরিবর্তিত থেকে যাওয়া এই নীতির পরিচিত যান্ত্রিক উদাহরণ।
প্রশ্ন 15: আলো তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ — ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী পরিবর্তনশীল তড়িৎ ক্ষেত্র চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে এবং পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তড়িৎ ক্ষেত্র সৃষ্টি করে — এভাবে পরস্পর লম্বভাবে কম্পমান তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের তরঙ্গ মাধ্যম ছাড়াই শূন্যস্থানে c = 1/√(ε₀μ₀) ≈ 3 × 10⁸ m/s বেগে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ম্যাক্সওয়েলের হিসাব থেকে পাওয়া এই বেগ আলোর পরিমাপকৃত বেগের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় — এটাই প্রথম শক্ত ইঙ্গিত যে আলো নিজেই একটি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। পরবর্তী প্রমাণগুলোও মিলে যায়: আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (সমবর্তন সম্ভব), শূন্যস্থান দিয়েও আসে (সূর্যালোক), এবং প্রতিফলন-প্রতিসরণ-ব্যতিচার-অপবর্তন সবই তরঙ্গ আচরণের সঙ্গে সংগত। তাড়িতচৌম্বক বর্ণালিতে দৃশ্যমান আলো একটি ছোট্ট অংশ মাত্র — গামা রশ্মি থেকে রেডিও তরঙ্গ পর্যন্ত সবাই একই পরিবারের, পার্থক্য শুধু তরঙ্গদৈর্ঘ্যে।
প্রশ্ন 16: ফ্রেনেল শ্রেণীর অপবর্তন বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: ফ্রেনেল শ্রেণীর অপবর্তন বলতে সেই অপবর্তনকে বোঝায় যেখানে আলোক উৎস বা পর্দা (বা উভয়ই) ছিদ্র বা বাধা থেকে সসীম দূরত্বে থাকে। এক্ষেত্রে ছিদ্রে আপতিত তরঙ্গমুখ গোলীয় বা বেলনাকার হয় এবং অপবর্তন বিন্যাস পর্দার দূরত্বের ওপর নির্ভর করে বদলায়। সোজা প্রান্তের ছায়া বা ছোট ছিদ্রের কাছাকাছি দেখা বিন্যাস এই শ্রেণীর উদাহরণ। বিপরীতে উৎস ও পর্দা অসীম দূরত্বে থাকলে (সমতল তরঙ্গমুখ) সেই অপবর্তন ফ্রনহফার শ্রেণীর।
প্রশ্ন 17: তরঙ্গ মুখের প্রকৃতি উৎস হতে দূরত্ব নির্ভর — ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বিন্দু উৎস থেকে তরঙ্গ সবদিকে সমান বেগে ছড়ায়, তাই উৎসের কাছাকাছি সমদশার বিন্দুগুলো উৎসকে কেন্দ্র করে গোলীয় তলে থাকে — তরঙ্গমুখ গোলীয়। উৎস থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গোলকের ব্যাসার্ধ বাড়তে থাকে, ফলে নির্দিষ্ট আকারের কোনো অংশে তরঙ্গমুখের বক্রতা ক্রমশ কমে আসে। অসীম দূরত্বে (বাস্তবে অত্যন্ত বড় দূরত্বে) গোলীয় তরঙ্গমুখের যেকোনো সীমিত অংশকে কার্যত সমতল ধরা যায় — তরঙ্গমুখ তখন সমতল, রশ্মিগুলো পরস্পর সমান্তরাল। অর্থাৎ একই বিন্দু উৎসের তরঙ্গমুখ কাছে গোলীয়, দূরে সমতল — প্রকৃতি দূরত্বের ওপরই নির্ভরশীল। রৈখিক (দণ্ডাকার) উৎসের ক্ষেত্রে একইভাবে কাছের বেলনাকার তরঙ্গমুখ দূরে গিয়ে সমতলে রূপ নেয়। দূরের নক্ষত্রের আলোকে সমতল তরঙ্গমুখ ধরা এই নীতিরই প্রয়োগ।
প্রশ্ন 18: সূর্যের আলোর তরঙ্গমুখ সমতল হয় কেন?
উত্তর: সূর্য থেকে নির্গত আলোর তরঙ্গমুখ আসলে গোলীয় — কিন্তু সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় 1.5 × 10¹¹ m দূরে অবস্থিত। পৃথিবীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেই গোলীয় তরঙ্গমুখের ব্যাসার্ধ এত বিশাল হয়ে যায় যে আমাদের লেন্স, চোখ বা যেকোনো যন্ত্রের ক্ষুদ্র আপার্চারের মধ্যে তরঙ্গমুখের বক্রতা কার্যত শূন্যের কাছাকাছি থাকে। গোলকের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশকে যেমন সমতল ধরা যায়, তেমনি পৃথিবীতে প্রাপ্ত সূর্যালোকের তরঙ্গমুখকেও সমতল ধরা হয় এবং রশ্মিগুলোকে পরস্পর সমান্তরাল মনে করা হয়। সাধারণ নীতি এটাই: উৎস যত দূরে, তরঙ্গমুখের একটি সীমিত অংশ তত বেশি সমতলের মতো আচরণ করে। এই আসন্নীকরণের ওপর ভিত্তি করেই সূর্যালোক দিয়ে করা অপটিক্যাল পরীক্ষাগুলোতে সমতল তরঙ্গমুখের সূত্রগুলো প্রয়োগ করা হয়।
প্রশ্ন 19: লেজার আলো সাধারণ আলোর চেয়ে বেশি সুসংগত কেন?
উত্তর: সাধারণ উৎসে (বাল্ব, সূর্য) প্রতিটি পরমাণু স্বতন্ত্রভাবে, যেকোনো মুহূর্তে এলোমেলো দশায় ফোটন ছাড়ে — সুসংগতির দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক মাইক্রোমিটার। লেজারে উদ্দীপিত নিঃসরণ (stimulated emission) ঘটে: একটি ফোটন উত্তেজিত পরমাণুকে ঠিক একই কম্পাঙ্ক, একই দশা ও একই দিকের যমজ ফোটন ছাড়তে বাধ্য করে — এই শৃঙ্খলায় কোটি কোটি ফোটন একই তরঙ্গের অংশ হয়ে চলে। ফলে লেজারের সুসংগতি দৈর্ঘ্য মিটার থেকে কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, আর কম্পাঙ্ক-বিস্তার অত্যন্ত সরু (প্রায় একরঙা)। এই কারণেই দীর্ঘ পথ পার্থক্যের ব্যতিচার (হলোগ্রাফি, দৈর্ঘ্য মাপার ইন্টারফেরোমিটার) শুধু লেজার দিয়েই সম্ভব। সুসংগতি ছাড়াও লেজারের দিক-নির্দিষ্টতা ও তীব্রতা আলাদা বৈশিষ্ট্য — কিন্তু অনুধাবনমূলে সুসংগতিই প্রধান পয়েন্ট।
প্রশ্ন 20: তরঙ্গমুখ বলতে কী বোঝ? দূরের নক্ষত্রের আলোর তরঙ্গমুখ সমতল ধরা হয় কেন?
উত্তর: কোনো তরঙ্গের সমদশায় কম্পমান বিন্দুগুলোকে যোগ করলে যে তল পাওয়া যায়, তাই তরঙ্গমুখ — তরঙ্গ সবসময় তরঙ্গমুখের লম্ব দিকে অগ্রসর হয় (এই লম্ব রেখাগুলোই রশ্মি)। বিন্দু উৎস থেকে গোলীয় তরঙ্গমুখ বের হয়; উৎস অসীম দূরে গেলে গোলকের ব্যাসার্ধ অসীমের কাছাকাছি হয় — যেকোনো সীমিত পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে বক্রতা এত কম যে তরঙ্গমুখকে সমতল ধরা যায়। নক্ষত্র কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে থাকায় পৃথিবীতে পৌঁছানো আলোর তরঙ্গমুখ কার্যত সমতল — এই আসন্নীকরণ দিয়েই টেলিস্কোপের ফোকাস ও ইন্টারফেরোমিটারের হিসাব সহজ হয়। বিপরীতভাবে কাছের ছোট উৎসে গোলীয় তরঙ্গমুখ ধরতে হয় — লেন্সের সূত্রে এই পার্থক্যই বস্তু-দূরত্বের হিসাব নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন 21: হলোগ্রাফি বলতে কী বোঝ? সাধারণ ছবির সঙ্গে এর পার্থক্য কী?
উত্তর: হলোগ্রাফি হলো লেজার আলো দিয়ে বস্তুর ত্রিমাত্রিক তথ্য রেকর্ড করার পদ্ধতি। বস্তু থেকে প্রতিফলিত লেজার রশ্মি ও একটি সরাসরি প্রসঙ্গ (reference) রশ্মি ফিল্মে মিলে ব্যতিচার বিন্যাস তৈরি করে — এই হলোগ্রামে সংরক্ষিত থাকে শুধু তীব্রতা নয়, তরঙ্গের দশা তথ্যও। পরে একই লেজার আলো হলোগ্রামে ফেললে অপবর্তনে মূল তরঙ্গমুখ পুনর্গঠিত হয় — ফলে ভাসমান ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব দেখা যায়, যাকে বিভিন্ন কোণ থেকে দেখা যায় সত্যিকারের বস্তুর মতোই। সাধারণ ছবিতে শুধু তীব্রতা ও বর্ণ ধরা থাকে, দশা হারিয়ে যায় — তাই ছবি দ্বিমাত্রিক। ব্যাংক নোট ও কার্ডের নিরাপত্তা হলোগ্রাম এই প্রযুক্তিরই হালকা রূপ। এইচএসসি পর্যায়ে মনে রাখার কথা: হলোগ্রাফি = ব্যতিচারে রেকর্ড + অপবর্তনে পুনরুদ্ধার।
প্রশ্ন 22: দ্বি-চিড় পরীক্ষার একটি চিড় ঢেকে দিলে ব্যতিচার পটি হারিয়ে যায় কেন?
উত্তর: ব্যতিচারের জন্য দুটি সুসংগত তরঙ্গের উপরিপাতন অপরিহার্য। একটি চিড় ঢেকে দিলে পর্দায় পৌঁছায় শুধু একটি চিড়ের তরঙ্গ — উপরিপাতনের দ্বিতীয় পক্ষই থাকে না, ফলে গঠনমূলক-ধ্বংসাত্মক বিন্যাস তৈরি হওয়ার প্রশ্নই থাকে না। বরং তখন দেখা যায় একক চিড়ের অপবর্তন বিন্যাস — মাঝখানে প্রশস্ত উজ্জ্বল অংশ, পাশে দ্রুত ম্লান প্রান্ত, কিন্তু সুষম ব্যবধানের তীক্ষ্ণ পটি নয়। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করে পটি দুটি চিড়ের যৌথ ফল — কোনো একটির একক সম্পত্তি নয়। মজার বিষয়: দুটি চিড় খোলা থাকলেও সামগ্রিক উজ্জ্বল আবরণটি একক-চিড় অপবর্তন দিয়েই নির্ধারিত হয়; ব্যতিচার পটিগুলো সেই আবরণের ভেতরে বসে — তাই কোনো পটি “নিখোঁজ” হলে অপবর্তন-অবমের সঙ্গে তার মিল থাকলেই বোঝা যায়।
ভৌত আলোকবিজ্ঞানের মূল বার্তা: আলো তরঙ্গ — তার প্রমাণ তিনটি: ব্যতিচার, অপবর্তন ও সমবর্তন। পরের পোস্টে আসছে অষ্টম অধ্যায় — আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স-এর অনুধাবনমূলক ম্যারাথন।
